শেয়ারবাজারে বড় ধস: ডিএসইর সূচক কমেছে ১০৪ পয়েন্ট

দেশের শেয়ারবাজারে পতনের ধারা কোনোভাবেই থামছে না। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে বাজার, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ১০৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট। এর পাশাপাশি মাত্র এক দিনে বাজার মূলধন কমে গেছে প্রায় ৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ২২ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৫ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৬ দশমিক ১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এই বড় দরপতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজার মূলধনে। দিন শেষে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মোট বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার ৭৮১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে মাত্র ২০টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ৩৪৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দাম। অর্থাৎ, লেনদেন হওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ারদর কমেছে。

দরপতনের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। রোববার ডিএসইতে মোট ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বা প্রায় ২৪ শতাংশ।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই শেয়ারবাজারে অস্থিরতা চলছে। এর আগে টানা ছয় কার্যদিবস পতনের কারণে ডিএসইএক্স সূচক ১৩৪ পয়েন্ট হারিয়েছিল। এরপর কয়েক দিন সূচক কিছুটা বাড়লেও সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্থায়ী হয়নি। গত সপ্তাহের শুরুতেও বাজারে পতন দেখা গিয়েছিল; যেখানে রোববার সূচক ৪১ পয়েন্ট এবং সোমবার ১৬ পয়েন্ট কমেছিল। অবশ্য মঙ্গলবার ৩৯ পয়েন্ট ও বুধবার ২৩ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচক মাত্র ২ পয়েন্ট বাড়লেও নতুন সপ্তাহের প্রথম দিনেই আবার বড় ধস নামল।

এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের মন্দা ভাব দেখা গেছে। রোববার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩০টির দর বেড়েছে, ১৫৭টির দর কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এদিন সিএসইতে মোট ১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ১৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭১ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ১ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

রোববারের এই বড় পতনের পেছনে তাৎক্ষণিক কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক চাপ এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো সমস্যাগুলো আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল এবং এসবের মাঝেই লেনদেন চলছিল। তাই হঠাৎ করে একদিনে এত বড় পতনের পেছনে নতুন কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে স্বাভাবিক ওঠানামা থাকবেই, তবে একদিনে এত বড় পতন বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও কমিয়ে দিতে পারে। বাজারের এই অস্থিরতা কাটাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।