ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটকের পর তার পরিবারের কাছে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এসআই তরিকুল ইসলামের ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে শৈলকুপার ভগবাননগর গ্রামের বিপুল হোসেনকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন এসআই তরিকুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর বিপুলকে 'সহজ ধারায়' আদালতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার একপর্যায়ে নগদ ১২ হাজার টাকা এসআই তরিকুলকে প্রদান করে এবং বাকি ৮ হাজার টাকা থানায় নিয়ে আসার জন্য বলা হয়। এই টাকা লেনদেনের কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অডিওতে এসআই তরিকুলকে বলতে শোনা যায়, '১২ হাজার টাকা নগদ দেন, বাকি ৮ হাজার থানায় নিয়ে আসেন।' এছাড়া 'থার্টি ফোর দিয়ে চালান দিবো, কোর্টে গেলেই জামিন'—এমন কথাও অডিওতে শোনা যায়।
পরিবারের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পরও বিপুলকে মাদক আইনের কঠোর ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পরিবার টাকা ফেরত চাইলে এসআই তরিকুল নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করেন। যদিও অভিযোগের বিষয়ে এসআই তরিকুল প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন, তবে প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনকল কেটে দেন।
শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, বিতর্কিত অডিও ক্লিপটি পুলিশের নজরে আসার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে এসআই তরিকুল ইসলামকে ক্লোজড করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

