প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ এএম। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় ন্যায়বিচার চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার মা অভিযোগ করেছেন, মামলার পর থেকে ধর্ষকের বোনসহ স্বজনরা তাদের প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘শান্তিতে থাকতে দেবে না, জানে মেরে ফেলবে। পুলিশ তো সব সময় সাথে সাথে থাকবে না।’
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হওয়া মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ফয়সাল নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে হয়। তাদের ১১ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় বর্তমানে তারা আলাদা থাকছেন। প্রায় এক মাস আগে ইসমাইলের সঙ্গে ওই কিশোরীর পরিচয় হয়। ইসমাইল তার স্বামীর সঙ্গে বিরোধ মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন তাকে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে যান। সেখানে ইসমাইল ও তার সহযোগী রাজু ও শাওন তাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনার সময় ইসমাইল তার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এবং বটি দিয়ে গলায় আঘাতের ভয় দেখান।
ঘটনার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ইসমাইলসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান আসামি ইসমাইলকে গ্রেফতার করেছে এবং স্বেচ্ছাসেবক দল তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নিতে ধর্ষকের পরিবার তাদের টাকা দিয়ে মিটমাট করার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজি না হওয়ায় এখন তাদের বড় ধরনের ঝামেলায় ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইসমাইলের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজি ও এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ইট-বালু সরবরাহে জবরদস্তির অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিলুল হক জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের হুমকির বিষয়টি তাদের জানা নেই। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের সব ধরনের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

