ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের জরিপ এবং বিভিন্ন মাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে নগরবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই দল চূড়ান্ত মনোনয়ন দিতে চায়। জাতীয় নির্বাচনের পরবর্তী এই নির্বাচনকে বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।
সম্প্রতি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি মহানগর নেতাদের নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে তালিকা তৈরির নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান। পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতাদের সঙ্গে পৃথক এক বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল কেবল একজন প্রার্থীকেই সমর্থন দেবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, তৃণমূলের ইউনিটগুলো জেলার সহযোগিতায় প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২০১৫ ও ২০২০ সালে তাবিথ আউয়াল বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন। তবে তিনি এখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি হওয়ায় এবার নতুন প্রার্থীর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, তাবিথ আউয়াল, এম এ কাইয়ুম এবং হাজী মোহাম্মদ মোস্তফা জামান। হাজী মোস্তফা জামান জানান, তিনি নিজেও মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং দল যাকে চূড়ান্ত করবে তার পক্ষেই কাজ করবেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রার্থী নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন মুখের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না দলটি। এছাড়া প্রশাসক আবদুস সালাম, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল এবং আফরোজা আব্বাসের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য ৯টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা চাওয়া না হলেও গ্রহণযোগ্য নেতাদের নাম দলের কাছে তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান।

