বাকেরগঞ্জে গ্রেপ্তারের পর নারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ২৪ (10 September 2026, 00:24)

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদক উদ্ধারের নামে পুলিশি অভিযানের পর নাদিয়া বেগম (৩৮) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল আদালত চত্বর থেকে জেলহাজতে পাঠানোর সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন নাদিয়া। পরে তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পথেই তিনি মারা যান।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকেরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনার পর বরিশাল জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাকেরগঞ্জ থানা পরিদর্শন করেছেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাকেরগঞ্জকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রামে অভিযান চালিয়ে নাদিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, নাদিয়া একজন মাদক বিক্রেতা এবং তাকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে পুলিশের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে দাবি করেছেন নাদিয়ার স্বামী এনামুল হক মন্টু গাজী। সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী এলাকায় জমিজমা নিয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই তোফাজ্জল হোসেন তার বাড়িতে এই অভিযান চালান।

এনামুল হক মন্টু গাজী আরও অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে যখন পুলিশ তাদের বাড়িতে হানা দেয়, তখন ঘরে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না। পুলিশ সদস্যরা দরজা ও জানালা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। এ সময় ঘরে থাকা ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা পুলিশ নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ওই টাকা থেকে মাত্র ১৯ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন নিহতের স্বামী।