রাষ্ট্রপতি পদে দুই প্রার্থীর কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশবাসী এই পদে ভোটগ্রহণ দেখতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটগ্রহণের শুরুতে তিনি সংসদ-সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। ব্যালট পেপারের গঠন সম্পর্কে ইসি সচিব জানান, এতে দুটি অংশ থাকবে—একটি মুড়ি ও অন্যটি ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রাপ্ত বিভক্তি নম্বর থাকবে। সংসদ-সদস্যরা তাদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন এবং ডান পাশের নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংসদকক্ষেই ভোট গণনা করা হবে এবং নির্বাচনি কর্তা ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করায় সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত আসনসহ মোট ৩৪৯ জন সদস্য ভোট দেওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে বিএনপির ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন, স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এএফএম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকল এবং বৃহস্পতিবার পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে দুই প্রার্থীর কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই প্রার্থী থাকায় কাল বৃহস্পতিবার এ পদে ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৫ বছর পর এ পদে ভোট দেখতে পাবেন দেশবাসী। যদিও জাতীয় সংসদে সব মিলিয়ে ২৪৭টি আসন নিয়ে বিএনপির একক সংখ্যা
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুসারে, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ওই ৯০ দিন শেষ হওয়ার আগেই এ পদে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর আগে গত ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

