রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা অর্জন এবং নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ মাসে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার প্রতিষ্ঠানের ওপর অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্সবিহীন ও মানহীন ২৫০টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ২০০টি ক্লিনিককে সংশোধনের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদেরও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেছে এবং আরও ২ থেকে ৩ হাজার আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে ১ হাজার ২৮৫টি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি, ময়মনসিংহে ২৫২টি, চট্টগ্রামে ২৪০টি, খুলনায় ১৫৬টি, রংপুরে ১১১টি, রাজশাহীতে ৫৫টি, বরিশালে ৪৮টি এবং সিলেটে ৮টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু রাজধানী ঢাকাতেই গত কয়েক মাসে প্রায় ২৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, শরীয়তপুর, নরসিংদী, পাবনা, মানিকগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ২০০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে নিয়মিত এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজেও উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম শনাক্ত করেন এবং জরিমানা বা সিলগালাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যূনতম মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিককে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, অভিযানের মাধ্যমে লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদপত্র যাচাই করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি ভুয়া ডাক্তার, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

