প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফর উপলক্ষে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সংস্কারের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে কটিয়াদীর ভোগপাড়া মোড়ে সাতজন শ্রমিককে ব্যস্ততার সঙ্গে সড়ক মেরামতের কাজ করতে দেখা যায়। তারা তড়িঘড়ি করে ইটের খোয়া বিছিয়ে তার ওপর বালুর প্রলেপ দিচ্ছিলেন। কাজের তদারকিতে থাকা ঠিকাদারের প্রতিনিধি রতন মিয়াকে এ সময় বড় বড় গর্তের ওপর এই জোড়াতালি কতদিন টিকবে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টিই এখন প্রধান লক্ষ্য।
স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদর ছাড়াও কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলায় দুটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তবে দীর্ঘদিনের বেহাল এই সড়কের সংস্কার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের মনে কোনো আস্থা নেই। তাদের অভিযোগ, এটি কেবল প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য এক দিনের লোক দেখানো কাজ মাত্র।
কটিয়াদী থেকে পাকুন্দিয়ার বটতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক ঘুরে দেখা যায়, স্থানে স্থানে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। কোথাও জমে আছে বৃষ্টির পানি। এর মধ্যেই ১০-১২ জনের দল বেঁধে শ্রমিকেরা কাজ করছেন, যেখানে কোথাও শুধু ইট-বালু আর কোথাও পিচের হালকা ছিটা দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে বালুর প্রলেপ দেওয়া অংশগুলো আরও পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ভোগপাড়ার কাছে একটি হেলিপ্যাডেও একই ধরনের সংস্কারকাজ চলতে দেখা গেছে।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই সড়কে বাস চালানো চালক আবুল কাইয়ুম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলিত থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর শোনার পর থেকে দিন-রাত কাজ চলছে। স্থানীয় রিকশাচালক লিয়াকত আলী জানান, সংস্কারের নামে যা হচ্ছে তা ১৬ তারিখ পর্যন্তও টিকবে কি না সন্দেহ। স্থানীয় দোকানদার রুস্তম মিয়া কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ভেকু ও রোলার দিয়ে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর আর টিকবে না। মেরাতলা অংশে শ্রমিকরা পাথরের গুঁড়া ও বিটুমিন দিয়ে গর্ত ভরাট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে বৃষ্টির কারণে তা টেকসই হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
ভৈরব সড়ক উপবিভাগ সূত্র জানায়, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ জেলা জুড়ে বিস্তৃত ৪৫ দশমিক ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কিশোরগঞ্জ অংশটি দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল। কটিয়াদী অংশের সাড়ে ১২ কিলোমিটার মেরামতের জন্য মেসার্স দাস ট্রেডার্সকে ২ এপ্রিল ১৬ কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ১১৪ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের ব্যবস্থাপক অরবিন্দ কুমার দাস দাবি করেন, আগে থেকেই কাজ শুরু হয়েছিল, এখন প্রধানমন্ত্রীর সফরের কথা বিবেচনায় নিয়ে গতি বাড়ানো হয়েছে এবং কার্পেটিংয়ের কাজও করা হচ্ছে। ভৈরব সড়ক উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এই মেরামতকাজ চলছে।

