জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বড় অবকাঠামো পরিচালনায় অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন।

সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে ব্রিফিং গ্রহণ করেন। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন তিনি। প্রকল্পটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় প্রকল্প এলাকায় তিনি একটি স্মারক নিমগাছের চারা রোপণ করেন।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত, যেখানে আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বন্দর সুবিধা, সঞ্চালন লাইন ও অ্যাকসেস রোডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যার জন্য জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে।

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন। তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনালসহ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলোও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং কয়লা পরিবহণ ও খালাসের অবকাঠামো সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হয়। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে পরিদর্শন শেষে তিনি হেলিপ্যাডের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যমান অবকাঠামোর দক্ষ ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গভীর সমুদ্রবন্দরের সমন্বিত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন, যা দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে তিনি মাতারবাড়ী ত্যাগ করেন।

রোববার (৯ আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন তিনি।