দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বিশেষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনী কর্তা’ এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা গোপন ব্যালটের পরিবর্তে প্রকাশ্যে ‘ওপেন’ ব্যালটে ভোট দেবেন। ফলে কে কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা উপস্থিত সবার কাছে দৃশ্যমান থাকবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সিইসি। গত ১১ আগস্ট ন্যূনতম সাত দিন সময় রেখে এই সংক্রান্ত গ্যাজেট প্রকাশ করা হয়। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনের ভোটার।
গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম সংসদীয় পদ্ধতিতে একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন এই ধরনের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা না থাকায় কমিশন প্রয়োজনীয় মহড়া ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট তিনটি মনোনয়ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে দুটি মনোনয়ন জমা দেওয়া হয় ড. অলি আহমদের নামে এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছিল। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি মনোনয়নই বৈধ ঘোষিত হয়। চট্টগ্রাম-৪ আসনের উপনির্বাচন বা শূন্যতার কারণে ভোটার তালিকায় বিভক্তি নম্বরে কিছুটা ডিসকন্টিনিউইটি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী একই প্রার্থীর দুটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে একটি বাড়তি হিসেবে গণ্য হওয়ায় চূড়ান্তভাবে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো প্রার্থীই নাম প্রত্যাহার করেননি।
এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। সংসদীয় সীমানার বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী ভোটিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সংসদ সদস্যরা এতে ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু হবে এবং সিইসি ফলাফল ঘোষণা করবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে এবং ভিআইপিদের ভোটদান ও গণনা পর্ব সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে।
ভোটার তালিকার ক্রমিকে কিছুটা বৈচিত্র্যের ব্যাখ্যা দিয়ে সিইসি জানান, সংসদীয় সীমানার সিরিয়াল অনুযায়ী পঞ্চগড়-১ থেকে শুরু হয়ে বান্দরবানে গিয়ে ৩০০ আসন শেষ হলেও এই নির্বাচনে মূলত সংসদের ‘বিভক্তি নম্বর’ অনুযায়ী ভোটিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

