লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ, নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি

তীব্র গরমের মধ্যে দেশজুড়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি ঘাটতির কারণে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পুলিশ প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা চেয়েছে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পল্লী বিদ্যুতের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সতর্কতামূলক নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

দেশের প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে, অর্থাৎ মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশই তাদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। গত কয়েকদিনে ৮০টি সমিতির সম্মিলিত গড় চাহিদা ছিল ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। ফলে অনেক এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এই দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যার জেরে বিভিন্ন স্থানে উপকেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে আইজিপির কাছে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চলমান এই সংকটের জন্য গ্যাসের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না এবং এক্সিলারেট টার্মিনালটি আংশিক সক্ষমতায় চলছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়। জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর ৪টায় লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট এবং রাত ১টায় তা বেড়ে ৩ হাজার ১৯৪ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার নতুন কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সব শপিংমল ও দোকানপাট এখন থেকে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টার পর কোনো ধরনের আলোকসজ্জা বা আলোকিত বিলবোর্ড চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা দেশের সব মেলা, বাণিজ্যমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে হাসপাতাল, ওষুধের দোকান ও খাবারের দোকান এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।