মোংলায় স্কুল মাঠে ড্রেন খননের অভিযোগ, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

বাগেরহাটের মোংলায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ড্রেন তৈরির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন খেলার মাঠে বিদ্যালয় বন্ধের সুযোগ নিয়ে শুক্রবার ও শনিবার রাতের আঁধারে মাটি কাটা হয়েছে। এতে মাঠের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কোনো অনুমতি না নিয়েই এই খননকাজ চালানো হয়েছে। বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল বাদশা এই কাজকে 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' হিসেবে অভিহিত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক জুলেখা খানম জানান, সকালে স্কুলে এসে তিনি খননকাজ দেখতে পান, অথচ এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

অভিযুক্ত লাভলী মজুমদার দাবি করেছেন, বৃষ্টির পানিতে তার বাড়িঘর ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেই তিনি পাইপ বসানোর কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি ২০ হাজার টাকা খরচ করে পাইপ কেনার কথাও উল্লেখ করেন। তবে বুড়বুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীরেন্দ্র নাথ মৃধা মাটি কাটার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্যমতে, পাইপ নেওয়ার বিষয়ে কথা হলেও মাঠের ভেতর ড্রেন কাটার অনুমতি তিনি দেননি এবং বিষয়টি জানার পর ম্যানেজিং কমিটিকে জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক মানিক চন্দ্র গাইন, বুড়বুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুলেখা খানম, সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. খান জাহান সরদার।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাটি কাটার চিহ্ন ও বড় বড় গর্তের প্রমাণ পেয়েছেন। তদন্ত কমিটির সদস্য মো. মতিউর রহমান জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে যাতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে মাঠ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন যাতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।