তুরস্ক সফরের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্য করে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কারণে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে একটি ছোট সরকারি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে আঙ্কারা সফরের শেষ দিনে এই হুমকি তৈরি হয়, যখন ইরানের সঙ্গে উত্তজনা তুঙ্গে ছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক ব্যক্তি জানান, সিক্রেট সার্ভিস এই হুমকিকে আসন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য মনে করায় প্রেসিডেন্টের গতিবিধি গোপন রাখতে নজিরবিহীন এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গোয়েন্দা তথ্যের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানানো না হলেও, সূত্রটি জানিয়েছে যে কর্মকর্তাদের হাতে প্রস্তুতির জন্য খুব কম সময় ছিল এবং সিদ্ধান্তটি শেষ মুহূর্তে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বিরোধীদের পক্ষ থেকে হামলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকলেও, হামলার অভিপ্রায় ছিল। ৮ই জুলাই তুরস্ক থেকে উড্ডয়নের আগে ট্রাম্প ও তার অল্প কয়েকজন সহযোগী একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়ালে বড় নীল-সাদা প্রেসিডেন্টের বিমান থেকে ছোট সি-৩২এ বিমানে উঠে পড়েন। একই সময়ে এয়ার ফোর্স ওয়ান আলাদাভাবে উড্ডয়ন করে, যেটিতে প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউসের কর্মী ও সাংবাদিকরা ছিলেন।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশেই তিনি এই বিমান বদল করেন। তিনি আরও দাবি করেন, যে বিমানে তিনি ছিলেন সেটিই সম্ভবত বেশি ঝুঁকির মুখে ছিল, যদিও এর কোনো প্রমাণ তিনি দেননি। মিচেল ইনস্টিটিউট ফর অ্যারোস্পেস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ডগলাস বার্কি জানান, হুমকিটি সম্ভবত তাপ-সন্ধানী ক্ষেপণাস্ত্রের ছিল, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি জানান, ইরানের এসএ-৬৭ ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সংস্করণে সাধারণ রেল-লঞ্চার ব্যবহার করা হয় এবং এটি তাপ-সন্ধানী ও লেজার-নির্দেশনা-নির্ভর। প্রচলিত রাডার-নির্দেশিত হুমকির তুলনায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন, কারণ এগুলো কোনো শনাক্তযোগ্য রেডিও তরঙ্গ পাঠায় না।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঙ্কারায় ট্রাম্পের অবস্থান এবং হোটেলের ঠিক কোন তলায় তিনি ছিলেন, তা ইরানিরা জানতে পেরেছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে যুদ্ধক্ষেত্র বা উচ্চঝুঁকির এলাকায় সফরের সময় ট্রাম্পসহ মার্কিন প্রেসিডেন্টরা মাঝে মাঝে গোপনে ভ্রমণ করেন। ২০০৩ সালের থ্যাংকসগিভিংয়ের সময় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বাগদাদ সফরের আগেও কয়েকজন সাংবাদিককে আগাম জানানো হয়েছিল। কৌশলগত কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিকে একটি বিভ্রান্তিমূলক বিমান বা ‘ডিকয়’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ওই বিমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং এবং আরও ১৩ জন কর্মকর্তা ও ৯ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। পুরো কৌশল সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়েছিল এবং ওই বিমানে ৩৩৩ জন যাত্রী ধারণক্ষমতার বিপরীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। ট্রাম্পের সঙ্গে ক্যাটারিং ট্রাকে করে বিমান বদল করেন উপপ্রধান কর্মকর্তা ড্যান স্ক্যাভিনো, নির্বাহী সহকারী ন্যাটালি হার্প এবং ওভাল অফিসের কার্যক্রম পরিচালক ওয়াল্ট নাউটা।

