বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিউ সোয়ে মো আজ রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার, পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ স্থাপন এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ প্রসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া বৈঠকে এলএনজি আমদানির বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বৈঠকে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, সীমান্ত যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও পরিবহন সংক্রান্ত যেসব বিষয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত, সেগুলোর ক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে। ভৌগোলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানো সম্ভব বলে মত দেন তিনি।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিউ সোয়ে মো দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে এটি শুরু করা গেলে উভয় দেশের জনগণ ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। আলোচনায় কৃষি, মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ ও হিমায়িত খাদ্যসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বা বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) কার্যক্রম জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকার যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী এ সময় দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন।
উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনে একমত হয়েছেন। এছাড়া সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ স্থাপনের প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়, যা পরিবহন ব্যয় ও সময় কমিয়ে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মায়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।

