কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সেলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে আবারও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানিয়েছেন। তবে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে কোন সময়ে এটি বন্ধ করলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের ওপর কম প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে এই টার্মিনালটির একটি অংশ চালু রয়েছে। তবে অপর অংশটি পুরোপুরি সচল করতে গেলে চলমান অংশটিও সাময়িকভাবে বন্ধ করার প্রয়োজন হবে। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় মেরামতের পর বর্তমানে টার্মিনালটির কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এই এফএসআরইউটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন (৪৫ কোটি) ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছিল। গ্যাস সরবরাহের এই বড় ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
দীর্ঘ দুই সপ্তাহের নিবিড় মেরামত কাজ শেষে গত ৫ আগস্ট টার্মিনালটির একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি মূলত টার্মিনালটির পূর্ণ সক্ষমতা ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ।
দেশের আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে মহেশখালীর এই এফএসআরইউ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩.৮ থেকে ৪ বিলিয়ন ঘনফুট হলেও স্বাভাবিক সরবরাহ থাকে মাত্র ২.৬ বিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, মেরামতের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা আগে থেকে নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ এর আগের মেরামত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়েও বিভিন্ন ধরনের কারিগরি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি যন্ত্রাংশ আমদানি ও দ্রুত সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

