শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তাদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্যে দেশের ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র চালুর বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার আয়োজিত এক সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ এই ঘোষণা দেন।
প্রাথমিকভাবে আরবি, জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইতালীয়—এই পাঁচটি ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে সামগ্রিক পরিকল্পনায় আরবি, চীনা, জাপানি, কোরীয়, ফরাসি, জার্মান, স্প্যানিশ ও ইতালীয়সহ মোট আটটি ভাষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ভাষা চালু করা হবে, তা নির্ধারণ করা হবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের চাহিদা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় এলাকাকে এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, এই কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো তৈরি, আধুনিক ভাষা ল্যাব স্থাপন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে কমিশন সব ধরনের সহায়তা করবে। একইসঙ্গে, কেন্দ্রগুলো যাতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয় এবং শিক্ষার্থীরা সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত শিক্ষা পায়, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখা হবে।
বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা কেন্দ্র চালু রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ ১৩টি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা আছে। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরির পাশাপাশি প্রয়োজন সাপেক্ষে বিদেশি ভাষা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে। এছাড়া বিএমইটির তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন অঞ্চলে কোন ভাষার চাহিদা বেশি, তা চিহ্নিত করার কাজও করবে কমিশন।

