শেখ হাসিনাকে ফেরাতে তৎপরতায় জড়িত শিক্ষক খুঁজছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো গোপন তৎপরতার সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক জড়িত আছেন কি না, তা অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তিনি দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এর আগে ১৯৯৬ এবং ২০০৯ সালে দুই দফায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করা শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ সন্তান।

তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে নানা তথ্য রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রিধারী শেখ হাসিনা ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ও তাঁর বোন শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় বেঁচে যান। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দী হয়েছেন। ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৮৬, ১৯৮৭, ১৯৮৯ এবং ১৯৯০ সালে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে আটক বা গৃহবন্দী রাখা হয়েছিল। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তিনি কারাবন্দী ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও দলের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন।

তাঁর শাসনামলে শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ইউনেস্কোর ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি এবং আইটিইউ থেকেও তিনি বিভিন্ন সময়ে সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’ ও ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’ ইত্যাদি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার স্ত্রী ছিলেন এবং তাঁদের দুই সন্তান সজীব আহমেদ ওয়াজেদ ও সায়মা হোসেন ওয়াজেদ।