অভিবাসন ব্যয় ৩ লাখে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের: শামা ওবায়েদ

অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বিদেশ যেতে একজন কর্মীকে ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। সোমবার সিঙ্গাপুরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রেমিট্যান্স সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, প্রবাসীরা দেশের গর্ব ও শক্তি। তাদের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত অর্থ একদিকে যেমন তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নত করছে, তেমনি বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিতকেও শক্তিশালী করছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যার মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে এসেছে প্রায় ৪৭৫ দশমিক ০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রবাসীদের সার্বিক সেবা ও সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি ডেডিকেটেড ‘মাইগ্রেশন উইং’ খোলা হয়েছে। এই উইং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, পুনঃকর্মসংস্থান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান স্থানান্তর এবং ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সিঙ্গাপুরে কর্মরত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি পাঁচটি বিশেষ অনুরোধ জানান: হুন্ডি পরিহার করে সবসময় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো, সিঙ্গাপুরের আইন, বিধি-বিধান ও কর্মসংস্কৃতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল থাকা এবং যেকোনো উগ্রবাদ বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকা, ভিন্ন ভাষা ও ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং নতুন প্রযুক্তি, কারিগরি বিদ্যা ও ভাষার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিয়ত দক্ষ করে তোলা।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে বেতন-বকেয়া ও কর্মসংস্থান হারানো কর্মীদের সহায়তায় সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মিনিস্ট্রি অব ম্যানপাওয়ারের সহযোগিতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান। পরিশেষে, প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশে একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ যুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছে। প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্স প্রেরক না হয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন। তাদের বিনিয়োগ দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরে কর্মরত ১৫ জন প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া চারটি প্রতিষ্ঠান, দুইজন সিআইপি এবং সিঙ্গাপুরস্থ বাংলাদেশভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আওতাধীন শীর্ষস্থানীয় তিনটি এক্সচেঞ্জ হাউজকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।