শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এনটিআরসিএ-এর পরিবর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। সোমবার রাত ৯টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পেজ ‘এহছানুল হক মিলন মিডিয়া সেল’ থেকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৫ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছে। তবে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া–সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএ-এর কার্যক্রম নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। কার্যবিবরণীতে উল্লেখ ছিল যে, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে এবং ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগ সুপারিশ করবে না। এই কার্যবিবরণীটি ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠন এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ ও বিবৃতি দেয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রপক্ষের মতো সংগঠনগুলো এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করে। তাদের আশঙ্কা, নিয়োগ ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দিলে স্কুলগুলোতে দলীয়করণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য বাড়বে।

সরকার সমর্থক হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে সুপারিশের ভিত্তিতে হয়, তবে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কর্মচারী পদে নিয়োগ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে হয়ে আসছিল। সম্প্রতি এই পদগুলোতেও এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতিমধ্যে লিখিত পরীক্ষাও হয়েছে।