ঢাকার সাভারে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে সরকারি কোয়ার্টারের ফ্ল্যাটে পুলিশের অভিযানের সময় পাঁচতলার ছাদ থেকে পড়ে মনারুল হোসেন বকশী (২৯) নামের এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মনারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাবা মো. জাফর আলী বিপিএটিসির একজন নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত এবং তিনি ওই কোয়ার্টারের একটি পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ তলায় সপরিবার থাকেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের পীরগাছা এলাকার ১৭ বছর বয়সী এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরী গত ২৩ জুলাই নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা শফিকুল ইসলাম পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই কিশোরী মনারুলদের ফ্ল্যাটে অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানা ও পীরগাছা থানার পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে ওই ফ্ল্যাটে অভিযানে যান।
অভিযানের সময় বাসায় মনারুলের বাবা ও মা উপস্থিত ছিলেন। মনারুলের বাবা জাফর আলী জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনিসহ পুলিশ সদস্যরা ভবনের পঞ্চম তলায় যান। তখন একজন পুলিশ সদস্য ছাদে ওঠেন। এর পরপরই ছাদ থেকে ভারী কিছু নিচে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে নিচে গিয়ে মনারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জাফর আলী আরও জানান, নিখোঁজ কিশোরীর সঙ্গে তাঁর নাতি সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। প্রেমঘটিত ঝামেলার কারণে সৌমিক এর আগেও তাঁদের বাসায় এসে থেকেছে। তিনি জানতে পেরেছেন যে তারা দুজনে বিয়ে করেছে, তবে বর্তমানে তারা কোথায় আছে তা পরিবারের জানা নেই। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম আলী জানান, তথ্য পেয়ে তাঁর থানার চারজন সদস্য সাভার থানা পুলিশের সহায়তায় ওই ভবনে যান। তবে অভিযানে নিখোঁজ কিশোরীকে পাওয়া যায়নি।
মনারুল হোসেন বকশীর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল বলেন, নিহত মনারুলের পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে এটি স্পষ্ট নয় যে তিনি ছাদ থেকে পড়ে গেছেন, লাফ দিয়েছেন নাকি তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত নিহত মনারুলের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

