২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি: সংসদ ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। এতে উপস্থিত কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময় নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, অধিবেশন পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী যেহেতু সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তাই নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সংসদ সচিবালয়কে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হচ্ছে। বৈঠক থেকেই পরবর্তী করণীয় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চূড়ান্ত হতে পারে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে আসন্ন এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত রোববার (৯ আগস্ট) ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। দলটিতে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম শোনা যাচ্ছে। এর বাইরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, দলীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্য থেকেই কাউকে এই পদে মনোনীত করা উচিত।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত সোমবার (১০ আগস্ট) জোটের একটি প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর এই পদটি শূন্য হয়। এরপরই সংবিধান ও প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার সংসদ ভবনে এই উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।