সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি শেহবাজ শরিফের

আবারও ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের পানির অধিকার ক্ষুণ্ন করার মতো যেকোনো পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাই তাদের কাছে একটি রেডলাইন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, ভারত যদি এই বিষয়ে সচেতন না হয়, তবে পাকিস্তান সরাসরি জবাব দিতে বাধ্য হবে। পাকিস্তানকে শান্তির পক্ষে উল্লেখ করলেও তিনি ভারতকে ‘শান্তির শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার অভিযোগ, নয়াদিল্লি একতরফাভাবে এবং অবৈধ উপায়ে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করেছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান শান্তির পক্ষে থাকলেও তাদের এই অবস্থানকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে পাকিস্তান শক্তভাবে তা মোকাবিলা করবে।

তিব্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে সিন্ধু নদ কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাকিস্তানের ভূখণ্ড অতিক্রম করেছে। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই নদ ও এর উপনদীগুলোর পানি ব্যবহারের বিষয়টি নির্ধারিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু নদ ব্যবস্থার মোট পানির প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহারের অধিকার ভারতের এবং বাকি ৮০ শতাংশ পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। তবে চুক্তিতে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এক দেশের নদীগুলোর পানি অন্য দেশের ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। নয়াদিল্লি এই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে চুক্তিটি স্থগিত করে। এর ফলে ভারত সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানির স্তরসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। অতীতে বর্ষাকালে এসব নদীর পানির স্তর বেড়ে গেলে ভারতের দেয়া আগাম সতর্কবার্তা পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে সহায়তা করত। বর্তমানে এই পরিস্থিতি দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান বারবার দাবি করে আসছে যে, ভারত চুক্তি স্থগিত করলেও এটি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও সরব হয়েছে।