মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক নেতারা। তবে তারা আবারও সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ গঠনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে বায়রার সাবেক নেতারা এই উদ্বেগের কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বায়রার সাবেক নেতারা মনে করেন, অতীতে অতিরিক্ত ফি ও ব্যয়ের কারণে অনেক কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে পারেনি। তবে সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আরও বিপুলসংখ্যক কর্মী বিনা বা স্বল্প খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানো সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২১ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। এর আগে ২০১৬ সালে ১০টি এবং ২০২২ সালে ২৫টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি পায়। এবারও একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর আশঙ্কা করছেন তারা। তাদের দাবি, সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার এফডব্লিউসিএমএস আরও ৩১২টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই তালিকাকে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার দেওয়া সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে ৩১২টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, এসব এজেন্সি ২৫টি অনুমোদিত এজেন্সির সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করলেও তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। ফলে কর্মী পাঠানোর নিয়ন্ত্রণ ওই ২৫ এজেন্সির হাতেই থাকবে এবং আগের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা ৪২৩টি এজেন্সির তালিকাকে বিতর্কিত ও অসম্পূর্ণ বলে দাবি করেছেন তারা। শর্ত শিথিলের বিষয়ে যথাযথ তথ্য না দেওয়ায় প্রায় দুই হাজার বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। নেপাল ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে সীমিতসংখ্যক এজেন্সিনির্ভর ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে বায়রার সাবেক নেতারা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সব বৈধ এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বায়রার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নূরুল আমিন, ফখরুল ইসলাম, আকবর হোসেন মঞ্জু ও মফিজ উদ্দিনসহ মোট ২১ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছেন।

