কিংবদন্তি অভিনেতা জসিমের জন্মদিনে রিয়াজকে খুঁজে পাওয়ার গল্প

ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে অ্যাকশনধর্মী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন, যিনি জসিম নামেই বেশি পরিচিত, আজ তার জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। খলনায়ক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে তিনি দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও তার বিশেষ দৃষ্টি ছিল। তার জীবনের অন্যতম সাফল্যের গল্প হলো রিয়াজকে খুঁজে পাওয়া, যা বদলে দিয়েছিল রিয়াজের ক্যারিয়ার।

১৯৭২ সালে ‘দেবর’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন জসিম। পরের বছর ‘রংবাজ’ সিনেমায় তিনি অ্যাকশন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমায় গাফফার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি খলনায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান। ভারতের জনপ্রিয় সিনেমা ‘শোলে’র আদলে নির্মিত এই ছবিতে জসিমের অভিনয় এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে, মূল ছবির গব্বর সিং চরিত্রের অভিনেতা আমজাদ খানও তার প্রশংসা করেছিলেন।

পরবর্তীতে ‘সবুজ সাথী’ সিনেমার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় চরিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন জসিম। আশির দশকে শাবানা ও রোজিনার সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ‘রংবাজ’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘লাইলী মজনু’, ‘জনি’, ‘সারেন্ডার’, ‘লালু মাস্তান’, ‘মাস্তান রাজা’, ‘কালিয়া’ ও ‘স্বামী কেন আসামি’সহ দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

ব্যক্তিজীবনে জসিম ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অভিনেত্রী সুচরিতা ও পরবর্তীতে নাসরিনকে বিয়ে করেন। তাদের তিন ছেলে রাতুল, রাহুল ও সামি সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এফডিসির একটি ফ্লোর ‘জসিম ফ্লোর’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।