জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনটি দাখিলের জন্য দিন ঠিক করা হয়েছে। রোববার এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বনির্ধারিত দিন ছিল, তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ আদালতে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম।
এর আগে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সালমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২৪ মে আদালত লাশ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের অনুমতি প্রদান করেন। তবে বাদীপক্ষের আপত্তির প্রেক্ষিতে আদালত সেই আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। গত ২২ জুন সিলেট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা সালমান শাহর মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে দেহাবশেষ উত্তোলনের প্রক্রিয়ার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের অফিস আদেশ জারি করেন, যা পরবর্তীতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো ও নথিভুক্ত করা হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ মারা যান। শুরুতে তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন। সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলে ওই বছরের ৩ নভেম্বর তারা প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এরপর বাদীপক্ষ সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এই হত্যা মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়াও মামলায় অনেক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, মৃত্যুর দিন সালমান শাহর মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী) এবং তার স্বামী নিউ ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে সালমানকে নিথর অবস্থায় পান। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

