ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের জন্য আস্ত খাসি না রাখাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। কনেপক্ষের সঙ্গে বরের তর্কাতর্কির জেরে শেষ পর্যন্ত বিয়েই ভেঙে দিয়েছেন কনের বাবা। গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়াকে বিয়ে না দিয়ে উপহারসামগ্রীসহ তাঁর পরিবারকে বিদায় করে দিয়েছেন কনের স্বজনেরা। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে আখাউড়ার তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল গতকাল। দুপুরে বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে হাজির হয় বরপক্ষ। সেখানে বরকে ফুল দিয়ে বরণ করা হলেও ফুলের তোড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বর জুনায়েদ। এরপর বরপক্ষের প্রায় ১৫০ জনসহ উভয় পক্ষের অতিথিদের খাওয়াদাওয়া সম্পন্ন হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বর, তাঁর ভাই ও চাচার জন্য তিনটি বড় ডালায় বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু সেই খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় আপত্তি জানান বর জুনায়েদ। এ নিয়ে কনেপক্ষের লোকজনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
কনের বাবা সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় বর আপত্তি জানালে তিনি বুঝিয়ে বলেন যে আগে থেকে খাসির কথা জানানো হয়নি। এমনকি বিয়ের পরবর্তী অনুষ্ঠানে আস্ত খাসি খাওয়ানোর আশ্বাসও দেন তিনি। সফিকুল ইসলাম বলেন, বরের বড় ভাই জুনায়েদকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে বর তাঁর ভাইকেই বিয়ে করতে বলেন। বরের এমন আচরণ দেখে তিনি ওই ছেলের সঙ্গে তাঁর মেয়ে বিয়ে না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এরপর কনেপক্ষ সব উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালংকারসহ বরপক্ষকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে বর জোনায়েদ মিয়া আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি লিখেছেন, খাওয়াদাওয়া শেষে কনেপক্ষ তাঁর কাছে পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে ১০ গুণ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে। তিনি ও তাঁর পরিবার তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং কনেপক্ষ তাঁদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয়।
তবে বরের বড় ভাই উজ্জল মিয়া বলেন, বরযাত্রীরা বিয়েতে অনেক কথাই বলতে পারেন, সবার মুখ বন্ধ রাখা যায় না। কনের বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁরা বিয়ে দেবেন না বলে জানিয়ে দিলে তাঁরা বরকে নিয়ে চলে আসেন। অন্যদিকে স্থানীয় ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া জানান, ছেলেটা খাবার নিয়ে অত্যন্ত খারাপ আচরণ ও বেয়াদবি করেছে। এ কারণে মেয়ের বাবা বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের জিনিসপত্রসহ বিদায় করে দেন।

