ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র তারাপীঠের একটি বেসরকারি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ও ধোঁয়ায় দমবদ্ধ হয়ে অন্তত সাতজন পুণ্যার্থীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে তারাপীঠের ওই পাঁচতলা হোটেলের নিচতলায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। সে সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথিই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো নিচতলায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকল কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে হোটেলের নিচতলার একটি বড় অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী রামপুরহাট সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে। নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, হতাহতদের প্রায় সবাই তারাপীঠ মন্দিরে পূজা দিতে আসা পুণ্যার্থী ছিলেন।
হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল আনন্দবাজার পত্রিকাকে দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, আগুন লাগার পরপরই রাতে পাহারার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে তার আগেই আগুন হোটেলের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার ফাইবার আবরণে ধরে যায় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
হোটেল মালিক আরও জানান, আগুন লাগার পর ঘন ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে আতঙ্কিত হয়ে অতিথিরা কক্ষ ছেড়ে বাইরে বের হতে গিয়ে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। হোটেলের পেছনের দিকে একটি জরুরি বহির্গমন পথ থাকলেও অন্ধকারের কারণে কেউ তা খুঁজে পাননি। ফলে সবাই রিসেপশনের সামনের দিক দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দগ্ধ হন। তবে আগুন দোতলার ওপরে না ওঠায় ওপরের তলাগুলোতে আটকে থাকা অন্য অতিথিরা প্রাণে বেঁচে যান।
দমকল বিভাগের প্রাথমিক অনুমান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

