জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খাবারের প্যাকেট বিতরণের সময় এমন ঘটনা ঘটে বলে কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি উপেক্ষা করে তাদের হাতে গরুর মাংসের ভুনাখিচুড়ির বক্স তুলে দেওয়া হয়, যা তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো আয়োজনে সকল অংশগ্রহণকারীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও খাদ্যাভ্যাসের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। বিশেষ করে সংবর্ধনার মতো আনুষ্ঠানিক আয়োজনে খাবার পরিবেশনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যসংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া এবং পৃথক খাবারের ব্যবস্থা থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানানো প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
তবে আয়োজকদের দাবি, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটেনি। জকসুর পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে সনাতন শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে মোরগ পোলাওয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। রিয়াসাল রাকিব তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, সনাতন শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস খাওয়ানোর অভিযোগটি ‘পুরোটাই মিথ্যা এবং ভুল বোঝাবুঝি’।
তিনি জানান, মোরগ পোলাওয়ের প্যাকেটগুলো স্টেজের পেছনে রাখা ছিল, কিন্তু খাবার আসতে দেরি হওয়ায় আয়োজকদের অজান্তে অন্যরা সেগুলো খেয়ে ফেলে। এর ফলে ভুলবশত ভুনাখিচুড়ির বক্স সনাতন শিক্ষার্থীদের হাতে চলে যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর তারা খাবারগুলো রেখে দেন এবং পরবর্তীতে আরও ৫০টি মোরগ পোলাও এনে বিকল্প ব্যবস্থা করেন। রিয়াসাল রাকিব স্বীকার করেন যে, খাবারের বিষয়টি মাইকে ঘোষণা না করাটা তাদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। এই ভুলের জন্য তিনি উপস্থাপনাকারীদের পক্ষ থেকে এবং নিজের পক্ষ থেকে সনাতন শিক্ষার্থীদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

