বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য ভারত সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সে বিষয়ে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত বিরোধীদলীয় সদস্যদের তিনটি প্রশ্নের জবাব দিলেও, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রশ্নটির কোনো লিখিত উত্তর তিনি প্রদান করেননি।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাবেক প্রধান ও তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য রাজীব কুমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চারটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন। সেগুলোর মধ্যে ভারত-বাংলাদেশের সংযুক্তি, ভিসা প্রক্রিয়া এবং সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশেষ করে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানতে চেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া, বাংলাদেশের সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) উদ্যোগের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে কি না, তাও জানতে চেয়েছিলেন রাজীব কুমার।
রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তসীমান্ত সংযুক্তির প্রকল্পগুলো এগিয়ে নিতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করা, সড়ক ও রেল-সংযোগ উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সংযুক্তির সম্প্রসারণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভিসাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি ভিসা আবেদন পৃথকভাবে যাচাই করা হয়। আবেদনকারীর দেওয়া নথি এবং প্রয়োজনে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ভিসা প্রক্রিয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে চিকিৎসা ভিসার আবেদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। সাধারণত আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পাঁচ থেকে ছয় কর্মদিবসের মধ্যেই মেডিক্যাল ভিসা পাওয়া সম্ভব। এছাড়া, হাসপাতালের আমন্ত্রণপত্র যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। ভারতের ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো (আইভিএসি) আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে এবং কোনো প্রক্রিয়াগত জটিলতা দেখা দিলে তা সমাধানে সহায়তা করে।

