রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতারা এতে অংশ নিয়েছেন। প্রার্থী ঘোষণার পূর্বে এই বৈঠকেই দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।
বৈঠক সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন এবং এই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এর আগে ১ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।
স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের চেয়ারম্যান গত কয়েকদিন ধরে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করে মতামত নিয়েছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে তিনি ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছেন, যা আজকের এই বৈঠকে ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
এদিকে বৈঠক শুরুর আগে সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রবেশ করেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ সময় জানান, দলের পক্ষ থেকে দুটি ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে তারা নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এবার বিরোধী জামায়াত জোট প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হতে যাচ্ছে। বিরোধী ১১ দলীয় ঐক্য এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়াও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স উপস্থিত রয়েছেন।

