দেশের চারটি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার ভোরে বগুড়া ও সিলেটে এবং বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম ও ঝিনাইদহে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া এসব ঘটনায় আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ প্রতিটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন। বেঙ্গল পরিবহন ও ইউনিক পরিবহনের বাস দুটির সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি খাদে পড়ে যায়। ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও তিনজনসহ মোট ছয়জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন, যাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেলাল, আমিরুল ও নূর আলমের পরিচয় পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত ও আহতরা কাজের সন্ধানে হাটে এসেছিলেন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানান।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাঠগড় জেলেপাড়া লিংক রোড এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শাহিন (২২) ও ইমন (২২) নামে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আনিক (২১) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, নিহতদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ মাদরাসা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তুফান দাস (৩১) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

