পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকায় একটি ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার কাবাল শহরের একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে আয়োজিত জঙ্গি বিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশে এই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া হামলায় ২৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ওই এলাকায় শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার জন্য সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সমাবেশের বক্তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জঙ্গিবাদ নির্মূল করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে দাবি জানাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় এক আত্মঘাতী হামলাকারী ভিড়ের মধ্যে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) রয়েছে। ২০০৭ সালে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সোয়াত উপত্যকা থেকে তালেবানদের বিতাড়িত করা হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে জঙ্গি তৎপরতা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রতিবাদে স্থানীয়রা নিয়মিত টিটিপি-বিরোধী সমাবেশ করে আসছেন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পৃথক বিবৃতিতে তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে পাকিস্তানে ৩,১৪৫টি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আফগানিস্তানভিত্তিক টিটিপি ২৭টি আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে, যাতে সেনাসদস্য ও পুলিশসহ ৮১৯ জন পাকিস্তানি নিহত হয়েছেন। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে যে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে, যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

