আইন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব অভিযোগকারীর: অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য নতুন আইন কর্মকর্তা নিয়োগকে ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। রোববার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিজ কার্যালয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, যদি কেউ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ করে থাকেন, তবে তা প্রমাণ করার দায়িত্বও সেই অভিযোগকারীর ওপরই বর্তায়। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অহেতুক প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নন, বরং নিজেও একজন নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অভিযোগ গুরুতর হলে তার তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু যথাযথ প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তুলে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার অর্থ হয় না। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ৩৩৭ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার হয়তো মনে করেছে এত বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তার প্রয়োজন নেই, তাই সংখ্যা কমিয়ে নতুন করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে অনেকে পুনর্নিয়োগ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক এবং সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

নতুন নিয়োগে যোগ্যতার মূল্যায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাজল জানান, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে থাকেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হওয়ার মতো যোগ্যতা প্রয়োজন এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কমপক্ষে পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। তিনি আরও বলেন, সরকার নিশ্চয়ই সব যোগ্যতা যাচাই করেই নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের প্রায় ৮০ শতাংশই আগের নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে রাখা হয়েছে, যার সাথে নতুনদেরও যুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন বিবেচনায় নেয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারের কাছে আইন কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের মানসিকতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।