২৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫৮ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম গত ৩ মে সাহেদের অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। মামলায় তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি সমপরিমাণ অর্থ জরিমানাও করা হয়েছে। রোববার এই মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, বাহার ট্রেডার্স ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী হাফিজ উদ্দিন বাহার ২০২০ সালের ২৬ জুলাই চেক ডিজঅনারের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেন। বাদীর সঙ্গে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের চুক্তি ছিল সাহেদের। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্মাণসামগ্রীর মূল্য পরিশোধের জন্য সাহেদ ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর উত্তরা ব্যাংকের বংশাল থানার নবাবপুর শাখার একটি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৫ মে চেকটি নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা ফেরত আসে। এরপর সাহেদকে এক মাসের সময় দিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি অর্থ পরিশোধ করেননি, যার ফলে মামলাটি করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী দবির উদ্দিন জানিয়েছেন, একই ঘটনায় ২০২০ সালের ১৬ জুলাই বাদী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আরেকটি মামলা করেছিলেন। তাঁরা সিএমএম আদালতের মামলার বিষয়ে অবগত থাকলেও চেক ডিজঅনারের এ মামলার বিষয়ে জানতেন না, যার কারণে সাহেদের অনুপস্থিতিতেই রায় দেওয়া হয়। রোববার এ মামলায় জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করে সাহেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে সাহেদের বিরুদ্ধে মোট ৩৫টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ জুলাই মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পল্লবী থানার পুলিশ সাহেদকে গ্রেপ্তার করে। করোনা মহামারির সময় নমুনা পরীক্ষা জালিয়াতি, অস্ত্র ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৫টিরও বেশি মামলা চলমান রয়েছে।

