তানজিন তামান্না অর্ণার দুটি কবিতা: বিষাদ ও অনুভূতির কাব্য

নিঃস্ব চুমুগুলো মুঠোফোনের দেয়ালে বন্দী হয়ে অস্পৃশ্যই রয়ে গেল। চোখের আকুলতায় যে রাত নেমে আসত, সময়ের ওপারে বসে সেই চাহনির মাদকতায় ভালোবাসতে বাধ্য করেছে। আঁধারের নিঃশ্বাসে উষ্ণতা ছড়িয়ে যে ভালোবাসায় উন্মাদ করা হয়েছিল, আজ শ্রবণেন্দ্রিয় সেই ভাষা খুঁজে ফেরে নিঃশব্দের আন্দোলনে। উঠানামা করা নিঃশ্বাসের নামতায় ধিমে আঁচে যে নির্বাক বাসনা জ্বলত, তার ক্লান্ত দেহ পুড়ে আজ ছাই ও ভস্মীভূত। আর তুমি ডুবে গেলে কালো সময়ের জলে। চোখে স্বপ্নের সরিষা ফুটিয়ে কেন সিলিংয়েই আহুতির বন্দোবস্ত করে দিলে? ভালোবাসোনি অথচ কোন ভুলের মাশুলে নিঃস্ব করে গেলে?

সুইসাইডের অন্ধকারের আবডালে ঝুলন্ত দেহের ছবি ভেসে ওঠে। ভায়োলিনের করুণ বেহাগ আহুতির সুর ধরে গোপনে, কতটা আড়ালে সেই সম্ভাষণ! দাঁড়কাকের ঠোঁটে হাসি। নিঃশব্দ চিৎকার কানের তালা কামড়ে দেয়ালের দিকে অবুঝ দৃষ্টি দেয়। চুমুকে চুমুকে কষ্টগুলো গলধঃকরণ করার হজমের পায়তারায় নিমগ্ন মুহূর্ত, সেকেন্ডের কাটায় শ্বাসের দৌড়াদৌড়ি আর চোখের পাতায় স্বপ্নের সাদা কাফন। অসার দেহ সকল ডিপ্রেশনের বহু ঊর্ধ্বে; বিকৃত মস্তিষ্কে কেবল নিবিড় ঘুমের নেশা। মদিরার সাগরে ডুবে যাওয়ার মতো নিজেকে ভুলে আলো-আঁধারের গোপন সুড়ঙ্গে লুকোচুরি খেলায় মত্ত, যেখানে হয়ত রয়েছে সকল সমাধান। কেবল একটি সিলিং এবং একটি রশির প্রয়োজন।