৯১ বছরের রেকর্ড ভেঙে বার্সার ইতিহাসে ইয়ামাল

ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে রূপকথার রাতে দারুণ এক ইতিহাস দেখল ফুটবলবিশ্ব। তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল ও ব্রাজিলের উইঙ্গার রাফিনিয়ার জোড়া গোলে ভর করে রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে বার্সেলোনা। এই জয়ের মাধ্যমে স্প্যানিশ ফুটবলে সব মিলিয়ে ৫০ গোলের এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক গড়ে ইতিহাস লিখেছেন ইয়ামাল।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য রায়ো ভায়েকানো কিছুটা চমক দিয়েছিল। ১২তম মিনিটে সের্হিও ক্যামেলোর দারুণ লক্ষ্যভেদে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অতিথিরা। তবে পিছিয়ে পড়ে দমে যায়নি হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় বার্সা। ১৯তম মিনিটে রাফিনিয়া স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান এবং ২১তম মিনিটে ইয়ামাল গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। চলতি মৌসুমে তরুণ এই উইঙ্গারের এটি ছিল প্রথম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে বার্সার আক্রমণের ধার আরও বৃদ্ধি পায়। ইয়ামাল ও রাফিনিয়া দুজনেই নিজেদের জোড়া গোল পূর্ণ করেন। এছাড়া রায়োর ডিফেন্ডার ফ্লোরিয়ান লেজেউনের এক আত্মঘাতী ভুলে ব্যবধান আরও বাড়ে। ওদিকে হারের ক্ষত কিছুটা কমাতে রায়োর হয়ে দ্বিতীয় গোলটিও করেন ক্যামেলো। টানা তিন জয়ে এখন লিগ টেবিলের চূড়ায় ফ্লিকের দল, যারা শেষ তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মোট ১২টি গোল দিয়েছে।

৫০ গোলের এই মহাকাব্যিক মাইলফলকে পৌঁছাতে ইয়ামালের বয়স লেগেছে মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন। এর মাধ্যমে তিনি রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেস (১৯ বছর ২৪৯ দিন) এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সাবেক তারকা ফার্নান্দো তোরেসকে (২০ বছর ২২১ দিন) পেছনে ফেলেছেন। ক্লাব বার্সেলোনার ইতিহাসের পাতাতেও এটি নতুন অধ্যায়। ১৯৩৫ সালে ২০ বছর ৩৫৬ দিন বয়সে ৫০ গোল করে ৯০ বছর ধরে এই রেকর্ড নিজের দখলে রেখেছিলেন প্রয়াত ফরোয়ার্ড জোসেফ এসকোলা। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নিজের করে নিলেন ইয়ামাল। এমনকি লিওনেল মেসিও এত দ্রুত এই অর্জনে পৌঁছাতে পারেননি, যার ৫০তম গোলটি এসেছিল ২১ বছর ১২০ দিন বয়সে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের হিসেবে কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৯ বছর ২৪১ দিন) ও আর্লিং হাল্যান্ডকেও (২০ বছর ১৯৬ দিন) টপকে সবচেয়ে কম বয়সে ৫০ গোলের রেকর্ড এখন এই স্প্যানিশ সেনসেশনের ঝুলিতে।

এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সার জার্সি গায়ে ১৫৪ ম্যাচে মাঠে নেমেছেন ইয়ামাল, যার মধ্যে ১২৬টিতে ছিলেন শুরুর একাদশে। সব মিলিয়ে তিনি গোল করেছেন ৫১টি এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪৫টি গোল।