ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পালা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর রাজস্ব আদায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী এনবিআর’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং এনবিআর পরিবেশিত স্টলের ডিজিটাল স্ক্রিনে বিভিন্ন উপস্থাপনা পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বিশেষ করে করদাতারা এনবিআরকে তাদের আস্থাভাজন ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কেবল জনআস্থা অর্জন সম্ভব। এনবিআর তথা রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। পতিত ফ্যাসিস্ট চক্র দেশকে ঋণনির্ভর ও আমদানি-নির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শুধুমাত্র বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেয়ার নীতিতে বিশ্বাসী নয়। তাই রাজস্ব আহরণে অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস ও ক্ষেত্র বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনে এনবিআর’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দলীয় স্বার্থে পৃষ্ঠপোষকতা বা রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিষ্ঠানটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। তিনি বলেন, আজকের এই রাজস্ব সম্মেলনকে আমি কেবল একটি সাধারণ সম্মেলন হিসেবে দেখি না, বরং এর সাফল্যের ওপরই সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে, যার ফলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়বে। আধুনিক রাজস্ব কর্মকর্তাকে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর প্রদান পদ্ধতি দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন। অনলাইনে কর পরিশোধের ব্যবস্থা থাকলে তা করদাতা ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে। একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা না বাড়িয়ে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে করের আওতায় আনা এবং ডিজিটালি আধুনিক ডাটা ভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।