রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা এবং তাদের জাতীয়তা নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সাম্প্রতিক বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াউ সোয়ে মোয়ে’র সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে সরকারের এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপস্থাপিত অনেক তথ্যই ভুল। বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারকে জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীন নিবন্ধিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সঠিক সংখ্যা যাচাইয়ের তাগিদ দিয়েছে। এর আগে গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা তারা যাচাই করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, যাচাইকৃত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইন বাসিন্দা। মিয়ানমার আরও দাবি করে যে, ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। একই সঙ্গে দেশটি রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর ভিত্তিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নন; কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত তাদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় রয়েছে। এ সময় শরণার্থীশিবিরে জন্মগ্রহণকারী শিশু এবং ২০১৭ সালের পর নতুন আসা রোহিঙ্গাদের তথ্যও যাচাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশ বর্তমানে এই নিবন্ধনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তী তথ্যগুলো যথাসময়ে মিয়ানমারকে দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ বিষয়ে বলেন, মিয়ানমারের বিবৃতির সংখ্যার সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয়। তিনি রাষ্ট্রদূতকে মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ করার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গারা যেন তাদের নিজস্ব পরিচয় নিয়ে নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে, সেটাই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমানও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন।
বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো তার দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের পর থেকে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যাদের মধ্যে অনেকেই আগে থেকেই কক্সবাজারে বসবাসরত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

