দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আগের দফায় বাদ পড়া প্রায় ৩০ লাখ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নতুন টিকাদান কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশজুড়ে হামের প্রকোপ অব্যাহত থাকায় নতুন করে টিকার সংস্থান করা হয়েছে এবং আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে একযোগে সারাদেশে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর সংক্রমণ রোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছিল। এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম পরবর্তীতে সারাদেশে সম্প্রসারিত হয় এবং মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তা শেষ হয়। তবে এই বিশেষ উদ্যোগের পরও দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আশানুরূপভাবে হ্রাস পায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৯৮৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এই সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
এর আগের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১০৩ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন; তাদের মতে, এখনও দেশের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু এই টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে।

