কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় কার্যালয়গুলোতেও হামলা চালানো হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের ডাকে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে। ‘গণঅধিকার পরিষদ দুজনের দল’—সম্প্রতি আমির হামজার এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে তার বাসভবনের অদূরে বিকাল ৫টা থেকে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সংসদ সদস্য পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। আমির হামজা অভিযোগ করেন, গণঅধিকারের খালেক ও তৌকিরের নেতৃত্বে লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তার চাচার পা কেটে গেছে এবং তিনি নিজেও কপালে আঘাত পেয়েছেন। তার পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির দাবি করেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তাদের অন্তত ৮-১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং তাদের সেক্রেটারি ও জেলা কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। এদিকে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক অভিযোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের তেমন ভিত্তি নেই এবং তারা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশকে নির্বিকার ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে বলে উভয় পক্ষই অভিযোগ তুলেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান জানান, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

