এক দফা-দুই দফার ক্রেডিট নেওয়ায় স্বৈরাচার ফেরার সাহস পাচ্ছে: মন্ত্রী মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক দফা ও দুই দফার ঘোষণার কৃতিত্ব কে নেবে—এমন বিতর্ক চলতে থাকায় পলায়নকৃত স্বৈরাচার দেশে ফেরার সাহস পাচ্ছে। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে’ আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ, জুলাই বিপ্লব ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই তিনি দেশে ফিরুন। তবে তাকে ফিরতে হবে ফাঁসির আসামি হয়ে। কোনো বিশেষ বা ক্যাঙ্গারু আদালতে নয়, দেশের প্রচলিত আইনেই তার বিচার সম্পন্ন হবে।’ শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরের বিভিন্ন অভিযোগ এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচারের মুখোমুখি তাকে অবশ্যই হতে হবে।

মীর হেলাল বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মালিক দেশের ১৮ কোটি মানুষ। এটি কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের অভ্যুত্থান নয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের গুম, খুন, নির্যাতন, দমন-পীড়ন ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এটি।’ তিনি অভিযোগ করেন, একজন ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ কারও খবরদারি বা তাবেদারি মেনে চলবে না এবং এখন থেকে দেশটি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ। সভাটি সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নসরুল কাদির এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।