কৃষিপণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গতকাল সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি অত্যন্ত সন্তোষজনক। উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য আমদানির নির্ভরতা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে।
দেশে সারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই, বরং চাহিদার চেয়েও অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার মজুতের পরিমাণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও যারা কৃত্রিম সংকটের কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতি মাসে পর্যায়ক্রমে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। ইতিমধ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের একটি ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যের বিপরীতে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে এবং ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খালের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে।
পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করার প্রয়োজন হয়নি। আগে সংরক্ষণের সুব্যবস্থা না থাকায় পেঁয়াজ পচে নষ্ট হতো, তবে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পাটবীজ, পেঁয়াজবীজ ও আদার ক্ষেত্রেও আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার জন্য কাজ চলছে।
খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে আগামী বছর থেকে হাওর অঞ্চলে ‘ব্রি ১১৮’ নামের একটি নতুন জাতের ধানের চাষ শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী। এই জাতটি প্রচলিত সময়ের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগে রোপণ করা যাবে, যা আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষা করবে। পাশাপাশি কৃষকদের সেচ খরচ কমাতে দেশের সব সেচ পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে চালানোর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এই সংবাদ সম্মেলনে কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজেও মন্ত্রীর এসব বক্তব্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

