রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিলটি বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে প্রশাসন ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ রাকসু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু রাকসুর ভিপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, রাকসুর ভিপি ১২-১৩ হাজার ভোট না পেয়েও তেরো লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছেন এবং আট লক্ষ টাকা বেশি দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, হিসাবের গরমিল করে পার পাওয়া যাবে না, বরং ভোটের আমানত রক্ষা করাই মূল দায়িত্ব। রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার উদ্যোগ নিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের আমানতের টাকা ব্যবহার করছেন, যা লজ্জাজনক।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ রাকসুর কোষাধ্যক্ষ সেতাউর রহমানকে ‘আলিবাবা’র সাথে তুলনা করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জন চোর ধরা পড়েছে যার মধ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার প্রধান। বাকি ৩০ জন চোর ছাত্রশিবিরের মাঝে লুকিয়ে আছে যারা রাকসুর টাকা দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী রাকসু নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাকসুতে বসে টাকা চুরির চক্রান্ত করে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিশ্বকাপ খেলা দেখাতে ছাত্রদল এলইডি স্ক্রিনে খরচ করেছিল মাত্র ৫০ হাজার টাকা, সেখানে রাকসু একই পর্দায় খেলা দেখাতে খরচ দেখিয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া একটি বুথ তৈরিতে রাকসু খরচ দেখিয়েছে ৩ লাখ টাকা, যেখানে ছাত্রদলের বুথ স্থাপনে খরচ হয়েছিল মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা। তিনি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে এর মধ্যে প্রায় ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনো বৈধ বিল-ভাউচার জমা পড়েনি।

