প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ২৪
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের রাজনৈতিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এই কর্মশালায় নেতৃত্বের বিকাশ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং মাদক ও র্যাগিংবিরোধী সচেতনতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায়ও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারা অনুযায়ী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং এটি লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক ভবনের কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহিন উদ্দিন এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান শুভ দাবি করেন, তারা প্রশাসনের কাছ থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং তারা তখনই তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, এটি একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা ছিল এবং সবারই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

