কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মৃতদেহ ফেরাতে তৎপর সরকার

ভারতের কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ কথা জানান। তিনি বলেন, কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনারের সাথে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুত মৃতদেহ দেশে আনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সাথে মিশন কাজ করে যাচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনের 'শিখা ইন' নামের আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মোট নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জানান, স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত সাত জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে, যার মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি এবং দুইজন ভারতীয় নাগরিক।

নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তাদের দুই বছরের সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া সাভারের ৩৭ বছর বয়সী আহম্মেদ বাবুও এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। উপ-হাইকমিশনার জানান, বাকি দুইজনের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর নিহতদের মধ্যে আরও বাংলাদেশি আছে কি না তা স্পষ্ট হওয়া যাবে। স্থানীয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী শুক্রবার নাগাদ মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিহতদের মৃতদেহ দেশে ফেরানোর ব্যয়ভার বহন প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ জানান, নিহতরা শ্রমিক না হওয়ায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা হয়তো খুব বেশি থাকবে না। তবে পরিবারের সদস্যরা যদি খরচ বহন করতে অক্ষম হন, সেক্ষেত্রে সরকার বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় দেখবে।

এদিকে স্থানীয় গণমাধ্যমে উঠে এসেছে যে, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে হোটেল মালিক বিরেশ্বর মিত্রসহ বেশ কয়েকজন কর্মচারী পলাতক রয়েছেন। হোটেলটির মালিকের স্ত্রী লিপি মিত্র জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছিল এবং বিদ্যুতের লাইনেও সমস্যা ছিল। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই ভবনে প্রায় ২০টি হোটেল রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত এভাবে হোটেলের সংখ্যা বাড়ছে। পলাতক হোটেল মালিককে গ্রেপ্তারে স্থানীয় পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।