সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে আইনি কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, এই রিকশাগুলোর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এখন থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিচালনা করবে না। এর পরিবর্তে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে।
নতুন এই বিধিমালার অধীনে রেজিস্ট্রেশনের জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি অবশ্যই সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে রিচার্জ করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে চার্জ করা হলে সেই রিকশার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না এবং নবায়নও করা হবে না। এই বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা। এছাড়া সৌরবিদ্যুতের বাইরে অন্য মাধ্যমে চার্জ করলে জরিমানার বিধানও রাখা হচ্ছে।
রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার আগে রিকশাগুলোর ফিটনেস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সার্টিফিকেট বুয়েট অথবা জেলা পর্যায়ের ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা থেকে নির্ধারিত ফি দিয়ে নিতে হবে। ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়ার পর তা সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় জমা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। প্রতি বছর রেজিস্ট্রেশন নবায়নের সময়ও নতুন করে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদর্শন করতে হবে।
রাজধানীর ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে চারটি করে মোট আটটি জোন থাকবে এবং প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রঙের কোড নির্ধারণ করা হবে। জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক জোনের রিকশা যাতে অন্য জোনে চলাচল করতে না পারে, সে বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। নতুন বিধিমালার আলোকে কোন রুটে রিকশা চলতে পারবে এবং কোথায় পারবে না, তা-ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই বিধিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান।

