গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই ১৮০ দিনের পথচলা মূলত জনগণের প্রতি সরকারের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতারই এক প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।
সোমবার বেলা ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এই সভার আয়োজন করে। সেখানে সরকারের গত ছয় মাসের সার্বিক কার্যক্রম, উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং আগামী দিনের উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরেন মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা ও প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচার বিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল হিসেবে এই সরকার জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন লাভ করেছে। তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জনস্রোত এবং নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন কর্মসূচিতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে এদেশের মানুষই বর্তমান সরকারের ক্ষমতার একমাত্র উৎস।'
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’, বিএনপির ২৭-দফা ও যুগপৎ আন্দোলনের ৩১-দফার আলোকে গৃহীত জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোর কথা সভায় তুলে ধরা হয়। মুখপাত্র জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১৩ লক্ষ কৃষক পরিবারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া কৃষকদের জন্য 'কৃষক কার্ড', নারীদের জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড', প্রবাসীদের জন্য 'প্রবাসী কার্ড' চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সাথে দেশজুড়ে ঐতিহ্যবাহী খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, পবিত্র রমজান ও ঈদে কৃত্রিম সিন্ডিকেট প্রতিরোধ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য সম্প্রতি ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালুর পাশাপাশি ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা ও শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিতির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
সরকারের আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদে রেকর্ড সংখ্যক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত পুলিশ ও প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভ্রমণ সতর্কতার ২য় ধাপে উন্নীত করেছে। এছাড়াও বহুল আলোচিত বিভিন্ন মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতিসহ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যোগাযোগ ও জ্বালানি খাতের অগ্রগতি সম্পর্কে মুখপাত্র জানান, ঢাকায় ২০০টি ইলেকট্রিক বাস এবং এআই ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর সাথে আলোচনা চলছে। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতি অনুসরণের মাধ্যমে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং সঞ্চালনা করেন উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান। এছাড়াও তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়ালসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

