তরুণদের ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনে রাজনৈতিক চাপের মুখে মোদি ও বিজেপি

ভারতের তরুণ প্রজন্মের গড়ে তোলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপির জন্য এক নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেকারত্ব, চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইনস্টাগ্রামে ব্যঙ্গাত্মকভাবে এই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়।

এই আন্দোলনের চাপে ইতোমধ্যে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। আন্দোলনের তীব্রতা কেবল দিল্লির রাজপথেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ভারতের বিভিন্ন শহরে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনের মধ্যে দুটিতেই বিজেপি হেরেছে। বিশেষ করে বিহারের ব্যাংকিপুর আসনে দলটির পরাজয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ আসনটি প্রায় তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতাকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো ঝুঁকির মুখে না ফেললেও সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী বা বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করার যে পুরোনো কৌশল, তা এবার তরুণদের ওপর খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না। এই আন্দোলনের অন্যতম বৈচিত্র্য হলো, এতে বিভিন্ন ধর্ম, জাতপাত ও সামাজিক শ্রেণির তরুণরা অংশ নিচ্ছেন, এমনকি উচ্চবর্ণের হিন্দু তরুণরাও এতে যুক্ত রয়েছেন।

তরুণদের মন জয়ের লক্ষ্যে বিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি এ বিষয়ে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। উত্তর প্রদেশেও তরুণদের জন্য বিশেষ যোগাযোগ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইনস্টাগ্রামের মতো বিকেন্দ্রীভূত প্ল্যাটফর্মে বিজেপির প্রচলিত প্রচার কৌশল আগের মতো প্রভাব ফেলতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রচারণা উল্টো সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা কেবল একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে সন্তুষ্ট নন। তারা কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জাতপাত ও সাম্প্রদায়িকতাসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার আমূল পরিবর্তন চান। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিজেপি তার হিন্দুত্বভিত্তিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না, বরং আগামী নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয় ও হিন্দুত্বের রাজনীতিকে আরও জোরালো করার চেষ্টা করবে। সব মিলিয়ে, ভারতের তরুণ সমাজের এই ক্ষোভ মোদি সরকারের সামনে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে বড় ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।