অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫৭ রান

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করার পর জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন এখন মাত্র ৫৭ রান। টাইগাররা একসময় অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর স্বপ্ন দেখছিল, তবে ক্যামেরন গ্রিনের দুর্দান্ত লড়াই সেই সম্ভাবনাকে কিছুটা দীর্ঘায়িত করে। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের বোলিং তোপে অজিদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে হাসান মাহমুদ বল হাতে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি অফস্টাম্প বরাবর ডেলিভারিতে ক্যামেরন গ্রিনকে বোল্ড করেন। ২০১ বলে ১০৪ রানের ইনিংস খেলে গ্রিন বিদায় নিলে অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে যায়। হাসান মাহমুদ এই ম্যাচে মোট ৯টি উইকেট শিকার করেছেন। এর আগে দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তাসকিন আহমেদ ৯৫ রানে গ্রিনকে জীবন দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে থামানো সম্ভব হয়েছে।

লাঞ্চ থেকে ফিরে তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার অষ্টম উইকেটের পতন ঘটায়। তাসকিন আহমেদের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মিচেল স্টার্ক। তিনি ৩৪ বলে ১৮ রান করেন। স্টার্ক ও গ্রিনের জুটি ছিল ৪৩ রানের। এর আগে প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়া ১৫ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে গিয়েছিল। সেই সময় ক্যামেরন গ্রিন একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের সপ্তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে ৫৬ রানের জুটি ভেঙে দেন। ক্যারি ৭২ বলে ৩০ রান করে লিটনের ক্যাচ হন। এরপর মিরাজ বেউ ওয়েবস্টারকে ৫ রানে বোল্ড করেন এবং ১০৯ বলে ২ চারে ফিফটি করা গ্রিনকে সঙ্গ দিতে নেমে প্যাট কামিন্স মাত্র ৮ রান করে সাদমান ইসলামের ক্যাচ হন। সব মিলিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ এই ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে অজিদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন। বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করেছিল, যা তাদের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করেছিল।

রোববার প্রথম সেশন শেষে তাদের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৪৩ রান।