অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংস হারের শঙ্কা কাটিয়ে লিড নিল স্বাগতিকরা

মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত স্পিন বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া যখন ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় ছিল, ঠিক তখনই ক্যামেরন গ্রিন ও মিচেল স্টার্কের সাহসী জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ৭ উইকেটে ২২৯ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া এখন বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে লিড নিয়েছে।

ম্যাচের এই দিনে ৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে অস্ট্রেলিয়া তাদের ব্যাটিং শুরু করে। দিনের সপ্তম ওভারেই মেহেদী হাসান মিরাজ আঘাত হানেন। লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফেরেন ৭২ বলে ৩০ রান করা অ্যালেক্স ক্যারি। এই উইকেটের মাধ্যমে গ্রিনের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভেঙে যায়। এরপর বাংলাদেশি এই অফস্পিনার দ্রুত আরও দুই উইকেট তুলে নেন। বেউ ওয়েবস্টার মাত্র ৫ রানে বোল্ড হন এবং প্যাট কামিন্স ৮ রান করে সাদমান ইসলামের হাতে ধরা পড়েন। কামিন্সকে আউট করার মাধ্যমে মিরাজ ইনিংসে নিজের চতুর্থ এবং দিনের তৃতীয় উইকেটটি পূর্ণ করেন। ২০৭ রানেই অস্ট্রেলিয়া তাদের সপ্তম উইকেট হারায়।

তবে এরপরই ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে থাকে। একপ্রান্ত আগলে রাখা ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়েন মিচেল স্টার্ক। তাদের প্রতিরোধে ৭৯তম ওভারের শেষ বলে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিডের সমান হয়ে যায়। পরের দুই বলের মধ্যেই গ্রিনের এক রানে স্বাগতিকরা লিড নিতে সক্ষম হয়।

দিনের শেষভাগে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২২৯ রান। ক্যামেরন গ্রিন ৭৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে লিড এনে দেন, আর তার সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন মিচেল স্টার্ক। এর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছিল এবং বাংলাদেশ ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের বড় লিড নিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে তানজিদ হাসান সেঞ্চুরি করেছিলেন, আর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক হাঁকিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জশ হ্যাজলউড ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশ ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখলেও গ্রিন-স্টার্কের প্রতিরোধ অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফিরিয়েছে। এখন ম্যাচের ফল নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার লিড কতটা বাড়ে এবং বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত শেষ দুই উইকেট তুলে নিতে পারে কি না তার ওপর।